কমন মিস্টেকস ইন রামাদান – অগ্রাধিকার
রমজান মাসে রোজা রাখা অবস্থায় মুসলিমরা সাধারণত যে ভুলগুলি করে থাকে, তার মধ্যে একটি হল অত্যধিক বিনোদন এবং আনন্দদায়ক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা – যেমন পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ, বড় ইফতার পার্টির আয়োজন। এগুলো অবশ্যই একটি সম্প্রদায়ের জন্য ভালো উদ্যোগ, কিন্তু এই কার্যকলাপ গুলো যেন আমাদের ইবাদত এবং তারাবির নামাজে বাঁধা না হয়ে দাঁড়ায়।
অনেক সময় দেখা যায় রোজার সময় কেউ হয়তো আপনার বাসায় ইফতার করতে আসলো, কিন্তু ইফতারের পরে তার আর উঠে যাওয়ার তাড়া নেই। অথচ আপনি চাচ্ছেন মসজিদে গিয়ে তারাবির নামাজ পড়বেন। এক্ষেত্রে আপনি বলতে পারেন – আমি অমুক সময় মসজিদে যাব তারাবির নামাজ পড়তে, আপনি চাইলে আমার সাথে মসজিদে যেতে পারেন। এটা এক প্রকার ভদ্রভাবে বলা যে আপনার সাথে আড্ডা দেওয়ার চেয়ে আমার নামাজ আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কাজেই জীবনের অগ্রাধিকার বুঝতে হবে। কোন ইফতার, বা কোন সামাজিক সমাবেশ – মসজিদে ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। এইতো কিছুদিন আগে, চাইলেও আমরা মসজিদে যেতে পারতাম না কোভিড সংক্রান্ত বিধি-নিষেধের কারণে। এই রমজানে আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে হেফাজত করেন, আল্লাহুম্মা আমীন!
আমাদের অন্তরে এই নিয়ত থাকতে হবে যে রমজান মাসে আমাদের ইবাদত এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে কোন কিছুই যেন বাঁধা না হয়ে দাঁড়ায়। এমন যেন না হয় যে মসজিদে না গিয়ে আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা দেই, টিভি দেখি বা ফেসবুকে সময় কাটাই। আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন এবং বেশি বেশি ইবাদতের ক্ষেত্রে এই মাস আপনার জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ, যা কারো কারো জন্য সীমাবদ্ধ করা হয় আল্লাহর ক্বদর দ্বারা। আমরা তো ধরেই নিয়েছিলাম যে আমরা যখনই চাইবো তখনই মসজিদে যেতে পারবো, কিন্তু কোভিড চলাকালীন সময়টা আমাদের বুঝিয়ে দিয়ে গেল আল্লাহর মসজিদে যাতায়াতও আমাদের জন্য সীমাবদ্ধ হয়ে যেতে পারে আল্লাহর ক্বদর দ্বারা।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা যেন এই রমজান মাসে আমাদেরকে সারিবদ্ধ ভাবে ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার তৌফিক দেন, এবং ইমামের মুখ থেকে কুরআনের তেলাওয়াত শোনার তৌফিক দেন। আল্লাহুম্মা আমীন! কাজেই এই রমজান মাসে অযথা কাজে সময় নষ্ট করবেন না, একটাই তো মাস – ২৯ কি ৩০ দিন, তাই না?
রাসুল (সা.) বলেছেন –
তোমাদের কাছে এ মাস সমুপস্থিত। এতে রয়েছে এমন এক রাত, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ থেকে যে ব্যক্তি বঞ্চিত হলো সে সমস্ত কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো। কেবল বঞ্চিত ব্যক্তিরাই তা থেকে বঞ্চিত হয়।’
[সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৪৪]
কাজেই যে লাইলাতুল কদরের বিশেষ দিনটি থেকে বঞ্চিত, সে রমজান মাসের বাকি ২৮ বা ২৯ দিনকে অবমূল্যায়ন করেছে। আল্লাহ যেন আমাদের সকলের কাজে খায়ের দান করেন।
আল্লাহুম্মা আমীন!
মূল: শাইখ ইয়াহিয়া ইব্রাহিম