কমন মিস্টেকস ইন রামাদান – লাইলাতুল কদর
যে ভুলগুলো মুসলিমরা রোজার মাসে করে থাকে, তার মধ্যে যেটা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত তা হল মানুষ সাধারণত রমজান মাসের শেষ ১০ রাতের জন্য সব ইবাদত ভালো কাজগুলো রেখে দেয়। রমজান মাসের শেষ দশ রাতে বেশি বেশি ইবাদত করার ব্যাপারটা ঠিক আছে, তবে ভুলটি হচ্ছে মানুষ লাইলাতুল কদরের রাতের ব্যাপারে ভবিষ্যৎবাণী করে – যেমন কেউ কেউ বলে লাইলাতুল কদর রমজান মাসের ২৭ তারিখে, আবার কেউ কেউ বলে অমুকে স্বপ্ন দেখেছে লাইলাতুল কদর অমুক রাতে… ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমাদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপলব্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ যে, লাইলাতুল কদর আল্লাহর দান, এটি একটি প্রকৃত রাত, রাসুলের (রা:) হাদিস অনুসারে এটি রমজান মাসের শেষ ১০টি রাতের যেকোনো একটি রাতে হতে পারে। এটি কোন বছর কোন রাতে, এবং কোন স্থানে তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।
যারা এই বিশেষ রাতের বরকত পেতে চান, তাদের রমজান মাসের আগ থেকে, রমজান মাসের শুরুতে এবং পুরো রমজান মাস জুড়েই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালার সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, তাঁর হেদায়েত অর্জন করতে হবে, নিজেকে আল্লাহর সামনে উদার হতে হবে, এবং আল্লাহর রহমত থেকে অন্যদেরও খায়ের দিতে সক্ষম হতে হবে।
অবশ্যই একজন মুসলিম হিসাবে আপনি নিজেকে ইবাদত এবং ভালো কাজ থেকে বিরত রাখবেন না এবং পিছিয়ে থাকবেন না, এবং বলবেন না যে আজ আমি বিশেষ কোন ইবাদত করব না, বা কোন দান খয়রাত করব না, কারণ আমি বিশ্বাস করি লাইলাতুল কদর রমজান মাসের ২৭ তারিখে। আজ আমি মসজিদে যাব না, আমি অপেক্ষা করবো ২৭ রোজা পর্যন্ত, তখন সবাই মসজিদে আসবে এবং ইমাম সাহেব দু’আ করবেন, সে রাতে কুরআন খতম করা হবে, কাজেই সেই রাতে আমি অন্যান্য রাতের চেয়ে বেশি ইবাদত করব।
না, এটা লাইলাতুল কদরের বরকত অর্জনের সঠিক উপায় নয়, বরং লাইলাতুল কদরের রাতে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সৌভাগ্য অর্জনের সঠিক উপায় হল এই রাতের আগের রাতগুলোতে এবং পরের রাতগুলোতেও, এমনকি রমজান মাসের পরেও আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর নিয়ত করা, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ যেন আমাদের সবার কাছ থেকে কবুল করে নেন।
মূল: শাইখ ওয়ালীদ বাসাইউনি